রবিবার, ৮ জুন, ২০১৪

ভর্তি পরীক্ষায় ২০-এর মধ্যে পেলাম ১ নম্বর


গুলশাখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করে ভর্তি হতে গেলাম লংগদু উপজেলা সদরের সরকারি হাই স্কুলে। পুরো উপজেলায় একটাই সরকারি হাই স্কুল। অনেক ছাত্রছাত্রী। তাদের সাথে যুক্ত হতে গুলশাখালী থেকে আমরাও ১৬-১৭ জন গেলাম ভর্তি হতে। লংগদু হাই স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক কেন জানি আমাদেরকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করতে রাজি হচ্ছিলেন না।

নানা রকম দেনদরবার চলল। তবে সমস্যা হলো
প্রধান শিক্ষক মনে হয় এককথার মানুষ, তিনি তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে চুপ করে রইলেন। আর কোন কথাই তিনি শুনতে কিংবা বলতে রাজি হলেন না। গুলশাখালী থেকে আমাদের সাথে এসেছিল  আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সম্মানিত শিক্ষকের মেয়ে। স্যার তাঁর পরিচিতদের দিয়ে প্রশাসনিকভাবেও চেষ্টা করলেন, আরও কেউ কেউ হয়তো চেষ্টা করেছিলেন। সকলের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত স্কুল থেকে আমাদের জানানো হলো- হুম, ভর্তি হওয়া যাবে।

তবে তার আগে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা লংগদু সরকারি স্কুলে ভর্তি হওয়ার যোগ্য। না এ বিষয়ে আমাদের কারো কোন অাপত্তি ছিল না। লংগদু হাই স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন একজন চাকমা ভদ্রলোক। একই সময়ে সেখানকার একজন গরুত্বপূর্ণ শিক্ষক ছিলেন একজন হিন্দু ভদ্রলোক। তিনি বেশ জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালীও ছিলেন। তিনিই আমাদের ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেন।

২০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা দিলাম এক ঘণ্টায়। ইংরেজি গ্রামার এবং বাংলা ব্যাকরণ থেকেই প্রশ্ন করা হয়েছিল। অন্যদের অবস্থা জানি না, তবে আমার লেখা শেষ হওয়ার অাগেই ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছিল। তারপরও মনে হলো, দেখি বেটারা এবার আমার ভর্তি ঠেকায় কীভাবে। পরের দিন ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দেখতে গেলাম। স্কুলের বাউন্ডারির ভেতর ঢুকতে যাচ্ছি, এমন সময় পরিচিত কেউ একজন বলে উঠল, গুলশাখালী থেকে এসে যারা ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল, তাদের রেজাল্ট দিয়েছে। একজন নাকি লেটার মার্কস পেয়েছে।

কথাটা শুনে একটু কেমন যেন নার্ভাস লাগছিল, সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট কী আমারটাই হয়ে গেল কিনা কে জানে। দুরু দুরু বুকে এগিয়ে গেলাম নোটিশ বোর্ডের দিকে। বোর্ডের কাছে গিয়ে চোখ ছানাবড়া অবস্থা। লেটার মার্কস, কোথায় কী! সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর হচ্ছে ৩। কিন্তু সেটাও তো আমি না। আমার সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের মেয়ে। দুই জন পেয়েছে ২ নম্বর করে, সেখানেও তো আমি নেই! তা হলে? হুম, নামটা আছে শেষের দিকে ১ নম্বর করে প্রাপ্তদের তালিকায়!

অর্থাৎ, সবাই ভর্তি হওয়ার অযোগ্য হয়ে গেলাম! গুলশাখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে যারা অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছিলাম, তাদের মধ্যে প্রথম হয়েছিলাম। অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম, নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে আরও অনেক দূর যাব। কিন্তু এমনটা কেন হলো? সারা উপজেলায় আর কোন স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ার সুযোগ নেই। কয়েকটা স্কুল আছে, কিন্তু সবগুলোই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। কেউ কেউ বাঘাইছড়ি, রাঙ্গুনিয়া কিংবা অন্য কোথাও গিয়ে পড়ার চিন্তা করছিল। আমি ঠিক কী করব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কেমন যেন সব এলোমেলো হয়ে গেল।

এমন সময় একটা আলোর পথ দেখালো বন্ধু শফিকের কাছ থেকে পাওয়া একটি খবর। সে অবশ্য আমাদের সাথে ভর্তি পরীক্ষা দেয়নি। প্রথম দিকেই নাকি সে বুঝে গেছিল যে, আমাদেরকে কোনভাবেই লংগদু হাই স্কুলে ভর্তি করা হবে না। তাই সে অন্য একটি স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সেটা আবার কোন্ স্কুল? বলল, রাবেতা মডেল স্কুল। সেখানে এবারই ক্লাস নাইন চালু করেছে। এখনো রেজিষ্ট্রেশনের অনুমতি পায় নি। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েছে, যেকোন মূল্যে রেজিষ্ট্রেশন করার ব্যবস্থা তারা করবেন।

না, আর কোন ভাবনার সুযোগ আমার ছিল না। পরদিন সকালে তার সাথেই গিয়ে হাজির হলাম রাবেতা মডেল স্কুলে। তারপর! হুম, জীবনের মানেটাই বদলে গেল সেখানে গিয়ে। কিন্তু কীভাবে? হুম, সে গল্পও আসবে......

দ্বিতীয় পর্ব: রাবেতা মডেল স্কুলে প্রথম দিন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন