বন্ধু শফিকের সাথে পরদিন সকালে গিয়ে হাজির হলাম রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। অবশ্য তখন এটি উচ্চ বিদ্যালয় ছিল না, তাই নাম ছিল ‘রাবেতা মডেল স্কুল’। দিন-তারিখ মনে নেই, তবে সময়টা ছিল জানুয়ারি মাসের দিক। তাই ক্লাস হয়তো ততটা গুরুত্বের সাথে শুরু হয়নি। স্কুল ড্রেস পরা শিক্ষার্থীরা মাঠে ছুটাছোটি করছে। ছেলেদের পরনে নীল রঙের প্যান্ট আর সাদা শার্ট, মেয়েদের সাদা সেলোয়ার, আকাশী ফ্রক আর তার উপর সাদা এপ্রন।
একই ধরনের ড্রেস পরা এতগুলো ছেলেমেয়েকে একসাথে এর আগে কখনো দেখিনি।
তাই প্রথম দেখায় একঝাঁক প্রজাপতির মতোই মনে হলো। লাল রঙের স্কুল ভবনটা মাইনীমুখ থেকে বাইট্টা পাড়া বা লংগদু যাওয়ার পথে এর আগেও কয়েকবার দেখেছি। কিন্তু এই প্রথম সেখানে গিয়ে হাজির হলাম। একে তো নতুন পরিবেশ, তার ওপর আগের দিন লংগদু হাই স্কুল থেকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। কিছুটা নার্ভাস।
শফিক প্রথমেই আমাকে নিয়ে গেল অফিস কক্ষে। এখলাছ মিঞা খান স্যারের কাছে গিয়ে বলল যে,
স্যার, এ হচ্ছে আমার বন্ধু সৈয়দ। সেও ক্লাস নাইনে ভর্তি হবে।স্যার কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেস করলেন,
বাড়ি কোথায়?বললাম, গুলশাখালী।
বাবার নাম কী? এমন আরও দু’একটি প্রশ্ন করে ভর্তি করে নিলেন। রোল নম্বর হলো ১৯। শফিকের ছিল ১৮।
অফিস কক্ষে আর কয়েকজন ছিলেন। কিন্তু কারো দিকেই আমার লক্ষ ছিল না। ভর্তি হয়েই বাইরে বেরিয়ে এলাম। শফিক বলল,
মুখে কিছুই বললাম না, তবে ভাবলাম, এক জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ২০-এর মধ্যে ১ পেয়েছি। এখানে নাজানি আবার কত পেয়ে নাস্তানাবুদ হতে হতো। যাক, স্যার প্রশ্ন না করায় সে লজ্জায় থেকে বাঁচা গেল। -----স্যার তোর দিকে যেভাবে তাকাচ্ছিল, আমি তো ভাবলাম, আবার ইন্টারভিউ নেওয়া শুরু করে কিনা? গতকাল তো আমাকে নানা প্রশ্ন করে নাজেহাল করেছে। অথচ আজ তোকে সেসবের কিছুই জিজ্ঞেস করল না।
প্রথম পর্ব : ভর্তি পরীক্ষায় ২০-এর মধ্যে পেলাম ১ নম্বর

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন